থাই ক্ষুদে ফুটবলাররা কেন গুহার এতো ভেতরে গিয়েছিল?

রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মধ্য দিয়ে ১৭ দিন পর গুহা চার কিলোমিটার ভেতরে আটকে পড়া থাই কিশোর ফুটবলাররা এবং তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়। এখনো তারা সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। থাইল্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক ডুবুরিরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে আটকে পড়া কিশোর ফুটবল টিমকে উদ্ধার করেন। অক্সিজেন দিয়ে ফেরার পথে মারা যান এক থাই ডুবুরি।
তবে গুহার এতো গভীরে কিশোরদের প্রবেশ এবং এই অভিযান নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সবার মুখে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হলো- কিশোর ফুটবলাররা কেন গুহার এতো গভীরে গিয়েছিল? অবশ্য যারা গুহায় আটকা পড়েছিল এখন পর্যন্ত সেসব কিশোর ফুটবলার এবং তাদের সঙেগ থাকা সহকারী কোচের কাছ থেকে সরাসরি কিছু জানা সম্ভব হয়নি। তাদের প্রধান কোচ নোপারাত কানতাওং বলেছেন, শনিবার তাদের একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল। সেটি বাতিল করে তিনি সেদিন প্রশিক্ষণের জন্য সময় নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি তাদের গুহায় যাওয়ার জন্য কোনো পরামর্শ দেননি। ফলে তাদের সেখানে যাওয়ার কথা ছিল না।
তবে বিবিসি বাংলা জানায়, শনিবার কিশোর ফুটবলারদের একজনের জন্মদিন ছিল। জন্মদিন পালনের জন্য সেদিন স্থানীয় একটি দোকান থেকে এই কিশোররা ২৭ থাই বাথ দিয়ে খাবার কিনেছিল বলে দোকানদার জানিয়েছেন। প্রধান কোচ নোপারাত কানতাওং বলেছেন, সহকারী কোচ একাপল এই কিশোর ফুটবলারদের খুব ভালবাসেন এবং তাদের জন্য সে সবকিছু করতে পারে। তিনি ধারণা করছেন, কিশোর ফুটবলাররা সহকারী কোচের কাছে আবদার করে তাকে নিয়ে গুহায় গিয়েছিল। এই এলাকায় গুহাটি সকলের কাছে পরিচিত এবং এই কিশোররাও আগে ওই গুহায় গিয়েছিল। গুহার গভীরে চলে যাওয়ার বিষয়ে ধারণা করা হচ্ছে, তারা যখন গুহায় গিয়েছিল, তখন শুকনো ছিল। কিন্তু হঠাৎ অতিবর্ষণে গুহায় পানি বাড়তে থাকায় তারা আরো গভীরে যেতে বাধ্য হয়েছে। গত ২৩ জুন ১২ জন ক্ষুদে ফুটবলারদের নিয়ে তাদের সহকারী কোচ গুহার ভেতরে ঢুকে আটকা পড়েন। এরপর গত ১০ জুলাই উদ্ধার অভিযানের তৃতীয় দিনে এসে ফুটবলার ও তাদের কোচসহ সবাইকে গুহা থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন ডুবুরিরা।

ভাগ