ডিআইজি মিজানুরকে প্রত্যাহার : পুলিশ সদর দপ্তরে তদন্ত কমিটি

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কেউ আইনের উর্ধেŸ নয়। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) সহেলী ফেরদৌস।
প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত চিঠি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বিস্তরিত বলা যাচ্ছে না। দ্বিতীয় বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ ওঠে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিন সপ্তাহ কারাভোগের পর সপ্তাহ খানেক আগে মরিয়ম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নতুন করে তাঁকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে মরিয়মের পরিবার।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্তহীন অভিযোগ রয়েছে। তিনি এক টিভি চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপিকাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ইসিকা আজাদ নামের ওই মহিলাকে ডিআইজি এক সময় অপহরন করতে ছেয়েছিলেন। তখ সাধারণ মানুষ মিজানকে গাড়ি সহ আটক করে ওই মহিলাকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মিজানকে উদ্দার করে। এ বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে কিনা তাও তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের একটি সুত্র জানায়, ডিআইজি মিজানের স্ত্রীর সাথে ইসিকা আজাদের ভাল সর্ম্পক ছিল। এ সর্ম্পকের সুযোগ নিয়ে বিণিœ সময় টাকা পয়সা হাওলাত নিতেন তিনি। এমন কি একটি প্রাইভেট কার কেনার সময় ডিআইজি মিজান জিম্মাদার হয়েছিলেন। প্রাইভেট কার বিক্রেতার মনির সাহেবে বকেয়া ৯ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য বার বার তাগাদা দিলেও তা পরিশোধ করেন না। পরবতীতে এ টাকা নিয়ে ডিআইজি মিজানের সাথে সর্ম্পতের অবনতি ঘটে বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান। জানা গেছে, ব্যাংক কর্মকর্তা মরিয়ম আক্তারকে গত বছরের জুলাই মাসে বিয়ে করেন মিজানুর রহমান। ২০১৯ সাল পর্যস্ত সেই কথা গোপন রাখার শর্ত দিয়েছিলেন স্ত্রীকে। মরিয়ম রাজি হননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি গত ১২ ডিসেম্বর পুলিশ পাঠিয়ে মরিয়মকে গ্রেপ্তার করান। মিজানুর রহমান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গত সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যত বড় কর্মকর্তাই হোন না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি যদি এমন গর্হিত কাজ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যপারে জানতে চাইলে ডিআইজি মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ সত্য নয়, ওই মহিলা একজন প্রতারক। এ জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে তার চাকরি গেছে। আর ওই সংবাদ পাঠিকা আমার স্ত্রীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছিল এবং আমার স্ত্রীর অনুরোধে তার গাড়ি কেনার সময় ৮ লাখ চাকার জামিনদার হয়েছিলাম। এখন তাদের কাছে ওই টাকা চাওয়াতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। এছাড়া সাবেক ব্যাংক কর্মকতর্কা ইকোর বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় এক ব্যবসায়ী প্রতারনা মামলা করেছে। ডিআইজি মিজান বলেন, ফয়েজ ইদ্দিন নামের একজন ব্যবসায়ীর সাথে ৫ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারনা করেছে মরিয়ম আক্তার ইকো। ওই ব্যবসায়ী মামলা করেছে। আমরা পুলিশ হিসাবে আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠাই। এটি তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে। তদন্ত চলছে, আমি তা মোকাবেলা করব।

ভাগ