জয়নাব হত্যার প্রতিবাদ: পাকিস্তানে কন্যাশিশুকে কোলে নিয়ে সংবাদ পাঠ

জয়নাব আনসারি নামের সাত বছরের কন্যা শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল পাকিস্তান। ঘৃণ্য ওই ঘটনার প্রতিবাদস্বরূপ নিজের ছোট্ট মেয়েকে কোলে বসিয়ে খবর পড়লেন দেশটির একজন সংবাদ উপস্থাপক। সামা টিভির কিরণ নাজ খবর উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন, একটি খুন হওয়া সমাজের কফিন বইছে পাকিস্তান। তাই মেয়েকে তিনি সঙ্গে এনেছেন খবর উপস্থাপনের সময়।
পুলিশ সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানায়, সপ্তাহখানেক আগে সাত বছরের ছোট্ট জয়নাবকে পাকিস্তানের কাসুর থেকে অপহরণ করে দুষ্কৃতীরা। ৪ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) কোরআন ক্লাসে শেষে বাসায় ফেরার পথে জয়নাবকে তুলে নিয়ে যায় দুস্কৃতিকারীরা। ৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) শহরের এক আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হয় জয়নাবের দেহ। তারপর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার টেলিভিশন পর্দায় মেয়েকে নিয়ে হাজির হন কিরণ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও কেন অপরাধীদের সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে পাকিস্তানজুড়ে এখন প্রশ্ন। প্রতিবাদীদের ঠেকাতে গুলি পর্যন্ত চালাতে হয়েছে। তাতে মৃত্যু হয়েছে দুই বিক্ষোভকারীর। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ জানুয়ারি (শুক্রবার)মেয়েকে কোলে নিয়ে খবর পড়তে সামা টেলিভিশনের পর্দায় হাজির হন কিরণ। শুরুতেই তিনি বলেন, ‘সঞ্চালক নয়, আজ আমি আপনাদের সামনে এসেছি একজন মা হিসেবে। আর তাই নিজের মেয়েকে সঙ্গে এনেছি। পাকিস্তান আজ প্রচণ্ড ভারী এক কফিন বইছে। এটা শুধু একটা শিশুর খুন নয়, গোটা সমাজের খুন।’
এক আত্মীয়ের বাড়িতে জয়নাবকে রেখে সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন জয়নাবের বাবা-মা। সেই প্রসঙ্গ টেনে কিরণ বলেন, একদিকে বাবা-মা গিয়েছেন মেয়ের জন্য প্রার্থনা করতে, অন্যদিকে তাঁদের মেয়েকেই অত্যাচার করে নৃশংসভাবে খুন হতে হল। গোটা ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিরণ। বুধবার সামা টেলিভিশনের সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ প্রচারিত বুলেটিনের প্রথম দেড়মিনিট কিরণ নাজ তাঁর ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে বসে সংবাদপাঠ করেন। সেই দেড়মিনিট-ই আলোড়ন ফেলে দিয়েছে গোটা বিশ্বে। বুলেটিনে কিরণ নাজের এই ভাবমূর্তির প্রশংসায় সরব হয়েছে সব মহল। এর আগেও একাধিক ঘটনায় কিরণ নাজের প্রতিবাদী ভাবমূর্তি সামনে এসেছে।

ভাগ