ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ফাহিম মাসরুরকে

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি ফাহিম মাসরুরকে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল ইসলাম ও ডিএমপির উপকমিশনার (জনসংযোগ) মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের পরই মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ফাহিম মাসরুরকে। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তদন্ত চলছে। তদন্তে এখনও তার ফেসবুক অ্যকাউন্ট থেকে উসকানিমূলক কিছু পাওয়া যায়নি। সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। সেই অভিযোগেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তার ফেসবুক ঘেঁটে আমরা এখনও তেমন কিছু পাইনি। এ জন্য মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলমান রয়েছে।’ সাইবার ক্রাইম ইউনিট সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডিএমপির উপকমিশনার (জনসংযোগ) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ফাহিম মাসরুরকে নিয়ে আসার পর তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।’ এর আগে, আজ বুধবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ফাহিম মাসরুরকে কাওরান বাজারের বিডিবিএল ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায় সিটিটিসি ইউনিট। গত রবিবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর কাফরুল থানায় দায়ের করা এক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
ফাহিম মাসরুরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. আল সাদিক। তিনি ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মামলায় ফাহিম মাসরুরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে উসকানিমূলকভবে মিথ্যা ও অপমানমূলক স্ট্যাটাস ও তথ্য আপলোড করে অপপ্রচরের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ দেশে অরজক পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ফাহিম মাসরুর তার ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীর ছবির ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন আপলোড ও শেয়ারসহ উসকানিমূলকভাবে মিথ্যা ও অপমানমূলক স্ট্যাটাস ও তথ্য আপলোড করেন। এই অপপ্রচারের মাধ্যমে ফাহিম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ দেশে অরাজক পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করেছেন এবং তিনি একই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। বাদী মো. আল সাদিক এজাহারে আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন মিথ্যা, মানহানিকর, আইনশৃঙ্খলার অবনতি সৃষ্টিকারী এবং রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এ ধরনের তথ্য ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করে; যা সংগঠন, রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
মামলার এজাহারের সঙ্গে ফাহিম মাসরুরের বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং এগুলোর স্ক্রিনশট সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১, ২ ও ৪ নম্বর স্ক্রিনশটে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন, ৫ নম্বর স্ক্রিনশটে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে নিয়ে ব্যাঙ্গ, ৬ নম্বর স্ক্রিনশটে ‘চাকরি দে… নইলে উন্নয়নে খাবো’, ৭ নম্বর স্ক্রিনশটে ‘আজকাল যে দামে প্রশ্নপত্র বাজারে কিনতে পাওয়া যায়, তার…’— এ ধরনের বিভিন্ন কথা বলা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ আছে। ফাহিম মাসরুর দেশের চাকরি বিষয়ক ওয়েবসাইট বিডিজবস ডটকম ও ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আজকের ডিলের প্রধান নির্বাহী। এসএমই (SME) ফাউন্ডেশন আয়োজিত ২০১৮ সালে জন্য বর্ষসেরা উদ্যোক্তা (মাঝারি প্রতিষ্ঠান, সার্ভিস ক্যাটাগরি) হিসেবেও পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। গত ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে তিনি এই পুরস্কার নেন। এছাড়া, বেসিসের সদ্যনির্বাচিত কমিটিতে তিনি পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।

ভাগ