চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা : তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, কোল্ডস্ট্রোকে দু জনের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা ॥ চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার ছিল সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড শীতে মানুষের কর্মজীবন স্থবির হয়ে গেছে। টানা তিনদিন ধরে চলছে এ অবস্থা। শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই ঠাণ্ডায় অসুস্থ হয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে জীবননগর উপজেলার বসতিপাড়ায় রওশন আলী (৫৮) ও ধোপাখালী গ্রামের রকিম উদ্দিন (৬২) কোল্ডস্ট্রোকে মারা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসাল্টটেন্ট ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, গত চারদিনে ডায়রিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩৩টি শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৩০টি শিশু ভর্তি রয়েছে। আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা জানান, তীব্র শীতের কারণে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাতালে ভর্তি হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক জানান, শনিবার চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উপ-মহাদেশীয় উচ্চ চাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মওসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। সে জন্য কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে চুয়াডাঙ্গা প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। গত বুধবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও বৃহস্পতিবার ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শুক্রবার ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো। গত চারদিন চুয়াডাঙ্গার গোটা এলাকা সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মানুষ তাদের ঘর থেকে বের হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রী সংখ্যা কম ছিলো। রিকশা ও অটোরিক্সা চালকরা যাত্রী না পেয়ে বসেই দিন কাটাচ্ছে। দিন মজুরদের অবস্থাও একই রকম। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে দুপুর পর্যন্ত রোদের মুখ দেখা যাচ্ছে না। কলেজ, বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির হার কম থাকছে। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নাঈম আস সাকীব জানান, টানা ৪-৫দিন শীত পড়লে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতি হতে পারে। তবে ভূট্টা গাছের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ জানান, চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য ৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও সাড়ে ১৩ হাজার কম্বল শীঘ্রই বিতরণ করা হবে।

ভাগ