গোপালগঞ্জে বোরো ধানের চার ভাগের এক ভাগ সেচের পানিতে যাচ্ছে

মোহাম্মদ মাহমুদ কবির আলী, গোপালগঞ্জ ॥ বড় আফসোস করে জানালেন বাদশা মোল্ল্যা (৬০) নামের এক কৃষক যে তার উৎপাদিত বোরো ধানের চার ভাগের এক ভাগ সেচের পানি বাবদ দিতে হচ্ছে প্রতি বছর। তার বাড়ী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ইছাখালি গ্রামের দক্ষিন পাড়ায়। প্রতি বিঘা জমিতে যে পরিমান বোরো ধান উৎপাদিত হয় তার থেকে চার ভাগের এক ভাগ সেচের পানিতে চলে যায়। কিছু ধান দিতে হয় কর্তনকারী কৃষি শ্রমিকদের আর কিছু দিতে হয় মাড়াইকারীদের। সব খাতে খরচ বাদে যে ধান থাকে তাতে তার লাভ বলে কিছু হয় না। সদালাপি এই কৃষক বেশ গম্ভীরভাবে জানালেন এসব কথা। জালালাবাদের মধুমতি বাজারে বসে তার সাথে কথা হচ্ছিল শীতের সকালে।
বাদশা মোল্ল্যা জানালেন তার জমিসহ প্রায় দশ বিঘা জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করেন ইমদাদুল শেখ (৫৫) নামে এক ব্যাক্তি। ইমদাদুল শেখ বেশ কয়েক বছর যাবৎ ডিজেল চালিত মেশিন ব্যবহার করে বোরো ধানের জমিতে পানি সরবরাহ করে থাকেন। মেশিনের ব্যয় ভার নির্বাহ করে তার লাভ হয় বেশ। কিন্তু কৃষকের অবস্থা শোচনীয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরনের কোন উপায় বাদশা মোল্ল্যা যেমন জানেন না তেমনি জানেন না ইছাখালি বা প্রতিবেশী গ্রামের সাধারন কৃষকরা। বাদশা মোল্ল্যার সাথে আলাপ করে জানা গেছে ঐ এলাকার জমি সমুহে ৩০ থেকে ৪০ মনের বেশী বোরো ধান পাওয়া যায় না প্রতি বিঘায়। সেখান থেকে চারের এক ভাগ যদি শুধু সেচের পানির দাম হিসাবে মেটাতে হয় তবে বোরো চাষ করে কি লাভ এমন প্রশ্নও করেছেন তিনি। এলাকার হিরু শেখ এবং নেপো শেখ বিশ বিঘা করে জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাদের মতো আরও কয়েকজন পানি ব্যাবসায়ী রয়েছেন যারা এলাকায় বোরো মৌসুমে সেচের পানি বিক্রি করেন। পানির মূল্য হিসাবে ধান দিতে হয় কৃষককে।
এসব সমস্যা নিয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন জালালাবাদের ইছাখালি গ্রামের কোন কৃষক তাদেরকে এ যাবৎ সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে অবগত করে নাই। কৃষকরা এসব সমস্যা নিয়ে সরাসরি আলাপ করলে যে কোন ধরনের সহায়তা দেয়া হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে যাতে সেচের পানি খাতে ব্যায় কমানো যায় সে মোতাবেক ব্যাবস্থা নিতেও কৃষকদের সাহায্য করা সম্ভব।

ভাগ