খুলনায় অপদ্রব্যপুশ জব্দকৃত ৪৭২ কেজি চিংড়ি আড়তে বিক্রি, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনার রূপসায় চিংড়ি মাছে অপদ্রব্য পুশের নামে কোস্টগার্ডের অভিযানে বিনা রশিদে একলাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং জব্দকৃত ২ হাজার ৩০৭কেজি বাগদা চিংড়ির মধ্যে ৪৭২কেজি নগরীর রায়েরমহলের একটি মৎস্য আড়তে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে এসব চিংড়ি জব্দ করার পর সোমবার সকালে জনৈক মঈন উদ্দীন রায়েরমহল মোস্তফা মৎস্য আড়তের ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজে এ চিংড়ি বিক্রি করেন। জব্দকৃত চিংড়ি বিক্রির পর ওই আড়তে চিংড়ি রাখার ক্যারেট বিক্রি করতে গেলে এ তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বংশীপুর এলাকার মেসার্স আছমা ফিশের মালিক বাবর আলী ও মেসার্স মনোয়ারা ফিশের মালিক আবু জাফর জানান, তারা মোকাম থেকে ১৭২ ক্যারেট বাগদা ৬ ক্যারেট গলদা চিংড়ি ট্রাকে করে রোববার খুলনার রূপসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। যার ওজন ৪হাজার ৬১৫ কেজি। রাত পৌনে ৯টার দিকে চিংড়ি বোঝাই ট্রাকসহ রূপসার খানজাহান আলী (রহ.) সেতুর ওপর আসলে কোস্টগার্ড ট্রাকসহ তাদের আটক করে সেতু সংলগ্ন কোস্টগার্ড অফিসে নিয়ে আসে। এ সময় কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার তাহেরুল ইসলাম, খুলনা মৎস্য ও মাণ নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মৎস্য পরিদর্শক ইফতেখার হাসান, আমিনুল ইসলাম ও লিপ্টন সরদার উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, রূপসা চিংড়ি বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পেঁৗঁছালে কোস্টগার্ড ১৭৬ ক্যারেট চিংড়ির মধ্যে ৮৮ ক্যারেট চিংড়ি পুশ হিসেবে চিহ্নিত করে দুই ব্যবসায়ীকে ৫০হাজার টাকা করে একলাখ টাকা জরিমানা করেন। ব্যবসায়ীরা একলাখ টাকা প্রদান করলেও তাদের কোন রশিদ দেয়া হয়নি। জব্দকৃত ৮৮ ক্যারেট বাগদা চিংড়ি বিনষ্ট করার কথা বলেন তারা। পরে সোমবার সকালে জনৈক মঈন উদ্দীন জব্দকৃত ৮৮ ক্যারেট বাগদার মধ্যে ১৮ ক্যারেট বাগদা (৪৭২ কেজি) খুলনার রায়েরমহল ভাই ভাই মৎস্য আড়তে এক লাখ ৫৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। চিংড়ি বিক্রির পর ক্যারেটে লাগানো আছমা ফিস ও মনোয়ারা ফিসের স্টিকার লাগানো ক্যারেটগুলো স্বল্প মূল্যে বিক্রি করার উদ্যোগ নিলে আড়ৎদারের সন্দেহ হয়। এসময় তারা স্টিকারে থাকা নম্বরে মোবাইল ফোন করলে বেরিয়ে আসে প্রকৃত রহস্য। সাথে সাথে বিক্রেতা মঈন উদ্দীন আড়ত থেকে কেটে পড়েন। তবে, জব্দকৃত এক হাজার ৮৩৫ কেজি চিংড়ির হদিস মেলেনি।
মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, পুশের নামে চিংড়ি জব্দ করে তা আড়তে বিক্রির তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে এর সাথে জড়িতদের তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড রূপসা অফিসের পেটি অফিসার তাহেরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মৎস্য ও মাণ নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মৎস্য পরিদর্শক ইফতেখার হাসান, আমিনুল ইসলাম ও লিপ্টন সরদারের মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মাণ নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টা আমার জানা নেই। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভাগ