খালেদা জিয়ার মামলা: আগে পর্যবেক্ষণ, পরে কর্মসূচি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা মোকাবিলা করতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে চায় দলটি। এক্ষেত্রে আগে পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে পরে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে দলটির বেশিরভাগ নেতা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দুটো শেষ না হতেই আরও ১৪টি মামলা বকশীবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও এর পেছনে সরকারের কী উদ্দেশ্য তা বুঝতে সময় নিচ্ছে। এরই মধ্যে সোমবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামীতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে না।
দলটির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মামলা বিশেষ আদালতে নেওয়ার মানেই হচ্ছে, তাকে হয়রানি করা। এ কারণে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির প্রচারণা স্তিমিত করতেই চেয়ারপারসনের মামলাগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘ম্যাডামের বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরাও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করছি। আর আইনি লড়াইও রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন না। নতুন এই মামলাগুলো নিয়েও রাজনৈতিকভাবে আমরা মোকাবিলা করবো।’ তিনি বলেন, ‘একটা উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার আলাদা আদালতে নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক ভাবেই এর নিরসন করা হবে। আদালত ও রাজপথে, উভয়ভাবেই মোকাবিলা করবো।’ রাজপথে কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি আসবে। কিন্তু সময় করে, আরও পর্যবেক্ষণ করে। যা করণীয়, তাই করবো আমরা।’
বিএনপি নেতারা এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছেন। তারা আত্মবিশ্বাসী যে, জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল মামলা থেকে খালেদা জিয়া খালাস পাবেন। তবে এক্ষেত্রেও তাদের কিন্তু আছে। তাদের মতে, আদালত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে রায় দিলেই খালেদা জিয়া খালাস পেতে পারেন।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার নতুন মামলাগুলো নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার। সরকার চাইছে, আগামী নির্বাচন থেকে তাকে দূরে রাখতে। এক্ষেত্রে আইনি পথেই উদ্দেশ্য হাসিল করা হবে। তবে বিএনপি আদালতে লড়াই অব্যাহত রাখলেও ভেতরে-ভেতরে রাজপথে কর্মসূচি ও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে দলটির হাইকমান্ড।
আরেক ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মনে বলেন, ‘সভা-সমাবেশ চলছে, আরও হবে। জনমত গড়ে তোলার কাজও করতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে বাকরুদ্ধ করার, জেলে নেওয়ার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে জনগণকে জাগিয়ে তোলার কাজটি হবে। সরকার দেশকে বাংলাদেশ পাকিস্তানিকরণে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবস্থাই বলে দেবে কর্মসূচির ধরন কেমন হবে।’ খালেদা জিয়ার মামলার দিকে নজর রয়েছে ২০ দলীয় জোট নেতাদেরও। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, আগে সরকারের অবস্থান বোঝা দরকার। এরপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে, করণীয় কী হবে। আবার কোনও কোনও নেতার ভাষ্য, খালেদা জিয়ার বিষয়ে বিএনপিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
খেলাফত মজলিসে আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘আইনি লড়াই করতে হবে আগে। এরপর পরিস্থিতি, পরিবেশই বলে দেবে কী করতে হবে। আগে আইনের প্রতি কোনও অবহেলা করতে চাই না। যেভাবে যুক্তিতর্ক চলছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন। তারপরও খালাস না পেলে অবস্থাই বলে দেবে করণীয় কী।’ এ প্রসঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাছ বলেন, ‘এগুলো রাজনৈতিক মামলা। আমরা তো নিজস্ব পরামর্শেই চলি। তাদের ব্যারিস্টার আছে। তাদের পরামর্শেই পথ বের করা উত্তম। আমাদের পরামর্শের দরকার নেই।’
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে পারেননি। তবে কিছুদিন আগে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে সাজা দেওয়া হলে রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবিলা করবো। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা ছিল প্রমাণসহ। কিন্তু আমাদের ম্যাডামের ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণ না থাকলেও ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। ফলে, শাস্তি দিলে আইনি ও রাজনৈতিক-দুটো পথেই মোকাবিলা করবো।’

ভাগ