খালেদার সমাবেশে আসতে পথে পথে বাধা, থামেনি জনতার ঢল

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির গতকালের সমাবেশে যাতে লোক সমাগম না হয় সেজন্য পথে পথে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সমাবেশের অনুমতি দেয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে। সমাবেশের আগের দিন রাত থেকেই রাজধানীতে নেতাকর্মীদের বাসা বাড়িতে তল্লাশি করে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ঢাকার আশেপাশে ঢাকা-মাওয়া খুলনা মহাসড়কে গণপরিবহন চলেছে খুবই কম। শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল করলেও পদ্মা পারাপারের যাত্রীবাহী বাস ছিল সীমিত সংখ্যক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এতকিছুর পরও বিএনপির সমাবেশে জনস্রোত থেমে থাকেনি। জনতার ঢল নেমেছিল সমাবেশে। বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই সমাবেশস্থলে ছুটে আসেন। সমাবেশ শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ব্যাপক লোকসমাগম ঘটে। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়েছে। যান চলাচল অঘোষিত বন্ধ থাকায় অফিসগামী মানুষেরা ঠিকমতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেনিন বলে তারা অভিযোগ করেছেন। গতকাল রাজধানীতে চোখে পড়ার মতো গণপরিবহন ছিলনা। প্রাইভেটকার আর রিকশার দখলে চলে যায় রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ঢাকা নগরীর ভেতরে সকালে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাস চলাচল কমে যায়। নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকেও ঢাকাগামী বাস চলাচল কম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর গাবতলী, পল্লবী, মোহাম্মদপুর ও মিরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গণপরিবহন ছাড়েনি। বিএনপির নেতাকর্মীরা কিছু বাস রিজার্ভ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেতে চাইলে গাড়ি আটকিয়ে তাদের নামিয়ে দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। মানিকগঞ্জ, সাভার, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, নরসিংদী থেকে ঢাকায় আসার প্রবেশ পথে এবং গাবতলীতে বাস আটকে দেয়া হয়। তবে কোনো বাসে সাধারণ যাত্রী থাকায় সেই বাসগুলো চলতে দেয়া হয়। কোনো কোনো স্থানে গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভারকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে সমাবেশ শুরুর আগে বলেন, বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলে বিএনপির জনসভা ভন্ডুল করতে সরকার গণ গ্রেফতারসহ নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে সরকার পরিকল্পিতভাবে আশপাশের জেলাগুলো থেকে বাস আসতে দিচ্ছে না। জনসভায় যাতে নেতাকর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ মানুষ না আসতে পারে, সেজন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। দূরপাল্লার বাসও ঢাকায় আসতে দিচ্ছে না। ট্রেনও ঠিকমতো ঢাকার বাইরে থেকে আসছে না। কিš’ এভাবে জনস্রোাত সরকার রুখতে পারবে না। আমাদের কাছে খবর আসছে নেতাকর্মীরা পায়ে হেঁটে, ঠেলা গাড়িতে চড়ে জনসভাস্থলের দিকে আসছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো: ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, সমাবেশে যাতে রাজধানীর দূর-দূরান্ত হতে নেতাকর্মীরা আসতে না পারে সেজন্য অঘোষিতভাবেই যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। উত্তরা থেকে শাহবাগ বা মতিঝিলগামী যান চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে। ফলে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন। তবে পায়ে হেঁটে হলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, সমাবেশে নেতাকর্মীরা যাতে অংশ নিতে না পারে সেজন্য অনেক কৌশল করেছে সরকার। তারা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। বাসা বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করেছে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। ঢাকার বাইরে থেকেও বহু নেতাকর্মী দেশনেত্রীর সমাবেশে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। জনতার ঢল নেমেছিল সমাবেশে।
সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী ও অধ্যাপক ড. দিলীপ বড়ুয়া। তারা সকলেই জানান, বিএনপি দীর্ঘদিন পর সমাবেশ করেছে। সরকার সমাবেশ নিয়ে টালবাহানা ও নেতাকর্মীদের হয়রানি করলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। সুশৃ*খল পরিবেশে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন রাস্তায় প্রাইভেটকারের সংখ্যা ছিল বেশি। কোনো কোনো এলাকায় যানজটও তৈরি হয়। তবে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। ফার্মগেট থেকে মৎস্যভবন পর্যন্ত তীব্র যানজট চোখে পড়ে। এমন পরি¯ি’তি হতে পারে ভেবে অনেক অফিসগামী লোকজন আগেভাগেই অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন। ফলে বাসস্ট্যান্ডগুলোয় যাত্রীদের ভিড় নজরে আসেনি।
মিরপুর থেকে মতিঝিল অফিস করেন হামিদুল ইসলাম সরকার ও আমিনুল ইসলাম। তারা দুজনেই জানান, প্রতিদিনের মতো রোববার বাসস্ট্যান্ডে ভিড় ছিল না। সকালে গাড়ি কম ছিল, মানুষও কম ছিল। গাবতলী ও পল্লবীতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার খবর শুনেছি। রাজধানীর কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় গাড়িগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সমাবেশে ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলোর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, শরিয়তপুর, মানিকগঞ্জ, মাদারিপুর ছাড়াও যশোর, বাগেরহাট, লক্ষীপুর, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন।

ভাগ