কার্বন নিঃসরণ ৭৫% কমানোর লক্ষ্য মাইক্রোসফটের

২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রমে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ৭৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মাইক্রোসফট। ২০০৯ সালে প্রথম কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য ঠিক করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ২০১২ সালে কার্বন নিঃসরণের ওপর প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভ্যন্তরীণ বৈশ্বিক কার্বন ফি চালু করেছিল মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। খবর ইকোনমিক টাইমস।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এখন জরুরি সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন খুবই দ্রুত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে বিশ্বের সব ধরনের শিল্প খাতসংশ্লিষ্টদের সাড়া চাওয়া হয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। এর অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট আগামী ১৩ বছরের মধ্যে তাদের কার্যক্রম ঘিরে কার্বন নিঃসরণ তিন-চতুর্থাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান আইনি কর্মকর্তা ব্র্যাড স্মিথ এক ব্লগ পোস্টে জানান, কার্বন নিঃসরণ কমানো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ক্রমান্বয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্র্যাড স্মিথ বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দেয়া ও শর্ত মানতে পারবে তারা। বিজ্ঞানীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বলা হয়, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, মাইক্রোসফটের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সাল নাগাদ এক কোটি মেট্রিক টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে।
মাইক্রোসফটের দাবি, তারা শতভাগ কার্বন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর জুনে ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে তাদের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টার প্রতি বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আগামী এক দশকের বেশিসময়ের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমাতে মাইক্রোসফটের উদ্যোগকে ইতিবাচক মনে করা হচ্ছে।
ব্রাড স্মিথ বলেন, মাইক্রোসফট বৈশ্বিক ক্লাউড অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার। কারণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি একটি বিশুদ্ধ শক্তির উত্স, যা আমাদেরকে আরো ভালো আর্থিক ধারণা দেয়। এছাড়া পরিবেশ, আমাদের গ্রাহক এবং সামগ্রিক ব্যবসা কার্যক্রমের জন্য শক্তির এ উত্স ইতিবাচক।
বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও সেবার পরিসর বাড়ছে দ্রুত। এ খাতের কারণে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাদের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দেখা যায় না। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপের মাধ্যমে সহজে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কার্বন নিঃসরণ কমানো যেতে পারে। এজন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সদিচ্ছাই যথেষ্ট।
গ্রিনপিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রক্রিয়া ও ব্যবসা কার্যক্রম পরিবেশবান্ধব নয়। কার্বন নিঃসরণ ঠেকাতে উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিবেশবান্ধব করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রযুক্তি শিল্পে জ্বালানি ব্যবহার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বিশেষ করে সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি চাহিদা বাড়ছে। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের পাশাপাশি এখন বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ ও টেলিকম নেবার ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক সেবা ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ডাটা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। ডাটা সেন্টার ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কারণে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

ভাগ