কর আরোপের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ প্রতিহত করার তাগিদ

কর আরোপের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণকারী কর্মকাণ্ডকে নিরুৎসাহিত করা যেতে পারে। এজন্য প্রয়োজন পরিবেশগত আর্থিক সংস্কার। গতকাল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাডাম স্মিথ ইন্টারন্যাশনালের (এএসআই) ‘ইকোনমিক ডায়ালগ অন গ্রিন গ্রোথ (ইডিজিজি)’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্যোগে এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইসিসিসিএডি) সহযোগিতায় আয়োজিত ‘অ্যানুয়াল ডিসিমিনেশন ইভেন্ট’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দুটি পৃথক সেশনে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘দি কেস ফর এনভায়রনমেন্টাল ফিসকাল রিফর্মস ইন বাংলাদেশ’। এ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদ। সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্ল্যানিং কমিশনের জেনারেল ইকোনমিক ডিভিশনের সদস্য জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম। সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার। সূচনা বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতা সংস্থা ইউকেএআইডির সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাডভাইজার পিটার ডি’সুজা। সেশন আলোচকদের মধ্যে ছিলেন ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরি ও আইসিসিসিএডির পরিচালক ড. সালীমুল হক।
প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ড. সাদিক আহমেদ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের অনেক উন্নয়ন-অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু এ অগ্রগতি অর্জন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। সরকারের অনেক নিয়ম-নীতি ও আইন থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন দুর্বল। পরিবেশ সুরক্ষায় সঠিক কৌশলেরও ঘাটতি রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নিয়ম-নীতির সঠিক সংজ্ঞায়ন পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ আনয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে দেশের প্রণোদনা নীতি, কর, ভর্তুকি, মূল্য ও সরকারি ব্যয় কর্মসূচিতে দুর্বলতা রয়ে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে এনভায়রনমেন্টাল ফিসকাল রিফর্ম (ইআরএফ) বা পরিবেশগত আর্থিক সংস্কার কার্যক্রমে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য ইআরএফের তিনটি ধরন হিসেবে ড. সাদিক প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার, পরিবেশগত সরকারি সেবার মূল্য নির্ধারণ ও পরিবেশগত কর আরোপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস, মত্স্য ও বনসম্পদে কর আরোপের পরামর্শ দেন।
ইআরএফের উপকরণ কী হতে পারে— এমন প্রশ্নের ব্যাখ্যায় ড. সাদিকের উপস্থাপনায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় সরবরাহকৃত পানির মূল্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ রয়েছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মাত্র ১২ শতাংশ মানুষ মিউনিসিপ্যালিটির নলের পানি ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছে। পরিচালন ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অদক্ষতায় পানি কমে যাওয়ার হার ২১-৩০ শতাংশ। শুধু ঢাকা শহরে আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে, যার আওতায় আছে মাত্র ২০ শতাংশ বর্জ্য পানি। এ পরিস্থিতি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
উপস্থাপনায় পরিবেশগত করের ক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর কর আরোপসহ শিল্প দূষণ, পানি দূষণের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ জানানো হয়েছে। এছাড়া বায়ু দূষণেও কর আরোপের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনে প্রধান অতিথি ও সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ প্ল্যানিং কমিশনের জেনারেল ইকোনমিক ডিভিশনের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মহসিন চৌধুরী। এ সেশনে ইডিজিজি কর্মসূচির সারসংক্ষেপ ও নীতি সুপারিশগুলোর ওপর উপস্থাপনা পেশ করা হয়।

ভাগ