কপিলমুনিকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হলেও ভিক্ষাবৃত্তি চলছেই

কপিলমুনি (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার প্রবেশদ্বার সীমান্তবর্তী কাশিমনগর প্রধান সড়কে দৃষ্টিনন্দন তোরণের পাশে রয়েছে উপজেলা ভিক্ষকমুক্ত সাইনবোর্ড। অথচ বাস্তবে উপজেলার কোন ইউনিয়ন এখনো ভিক্ষুকমুক্ত হতে পারেনি। প্রতিদিন শত শত ভিক্ষুক এসব ইউনিয়নে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা এ পেশা ছাড়তে পারছে না। ভিক্ষুকরা এখনো ভিক্ষাবৃত্তি করছে বিভিন্ন হাট-বাজার বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ উপজেলার সর্বত্র। প্রতিদিন সকাল হলেই বিভিন্ন জায়গায় তাদেরকে দেখতে পাওয়া যায়। কপিলমুনিতে এদের সংখ্যা কম নয়। ভিুকদের অনেকেই এটাকে পেশা হিসেবে আঁকড়ে ধরে আছে। অনেকে আবার আর্থিক অনটন ও বয়স বৃদ্ধির কারণে এ পেশায় নামতে বাধ্য হন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কপিলমুনি-হরিঢালী ইউনিয়নে বেশি সংখ্যক ভিক্ষুকের বসবাস। হরিঢালী ইউনিয়নের ষাটোর্ধ মুনতাজ বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি ভাল লাগে না তবুও পেটের তাগিদে এ কাজ করি। একই কথা বলেন কপিলমুনির আছিরন্নেছা (৫২), ছবিরন বিবি (৬৩), বিদ্দে বুড়ি (৯০), কদবানু বিবি (৬১), মহিরম বেগম (৭৫)। তারা বলেন, সংসারের দু’মুঠো অন্ন যোগাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ভিক্ষাবৃত্তি করে কোন রকম বেঁচে আছি। তারা আরও বলেন, বৈশাখ মাসে আমরা দুটি করে ছাগল পেয়েছিলাম কিন্তু কিছুদিন পর মারা গেছে। ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে সরকারি অনুদানের বিষয়ে তারা বলেন, এক কোটা করে মাল পেয়েছি। পরবর্তীতে আরও পাবো বলে রাস্তায় নামিনি। কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ খবর নেয়নি আমাদের। অনেকেই জানান, এ ব্যপারে বারবার চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে গিয়েছি কিন্তু তারা বলেন, যখন আসে তখন পাবে, বাধ্য হয়ে আমরা ভিক্ষাবৃত্তি করছি। প্রতিদিন যে ভাবে ভিক্ষুক বৃদ্ধি পাচ্ছে তার উপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নজর না রাখলে ভিক্ষুকমুক্ত সমাজ গড়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।
এ বিষয় কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদ্দার বলেন, সরকারি অনুদান যা এসেছিল তা ভিক্ষুকদের মাঝে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যেভাবে চাইবে আমাদেরকে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে আমরা আশাবাদী একের পর এক ভিক্ষুকদেরকে পুনর্বাসন করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল হাসান বলেন, দারিদ্র্যতা লাঘবে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। ভিক্ষুকদের তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে পর্যায়ক্রমে তারা সরকারি সুয়োগ-সুবিধা পাবে।

ভাগ