কনকনে শীতে কাঁপছে দেশ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে

সুন্দর সাহা ॥ পৌষের শেষে এসে কনকনে শীতে কাঁপছে দেশ। গত ২/৩ ধরে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বাতাস বইতে শুরু করেছে। তীব্র শীতে জুবুথুবু হয়ে পড়েছেন কর্মমুখী সাধারণ মানুষ। এই শীতে দরিদ্র খেটে-খাওয়া মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এদিকে, গত দু’দিন ধরে , খুলনা, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার সকালের মধ্যে দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে এই শৈত্যপ্রবাহ বিস্তার লাভ করেছে। আজ শনিবার এ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
অবহাওয়ার পূর্বভাসে বলা হয়েছে, পৌষের শেষের দিকে এসে দেশের বিভিন্ন স্থানের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। শুক্রবার সকালে আবহাওয়া কার্যালয় থেকে জানানো হয় যে, এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন দেশের বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দেশে আজও অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তীব্র শীতে সবচে বেশি সমস্যা হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে ধারণমতার তিনগুণ রোগী ভর্তি হয়েছে। শ্রমজীবী সাধারণ মানুষও শীতে কষ্ট পাচ্ছেন। একান্ত বাধ্য না হলে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শীতের সঙ্গে প্রচণ্ড কুয়াশা থাকায় যান চলাচলও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। গত দু’দিন ধরে কনকনে শীতে জুবুথুবু হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষসহ প্রাণিকূল। সূর্যের দেখা মিললেও ঠাণ্ডা বাতাসে হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে। শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে। এদিন এ জেলায় ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যশোরসহ খুলনাঞ্চলে দু’দিন আগে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। কমতে শুরু করে তাপমাত্রা। যশোর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছিল যশোরে। এদিন যশোরে সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় এবং বাতাসের কারণে শীত অনুভূতও হচ্ছে খুব বেশি। খুলনা বিভাগজুড়ে এখন হালকা থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। আরও কয়েকদিন এই অবস্থা থাকতে পারে। গত বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এদিন যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার যশোরে এই তাপমাত্রা আরও কমে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের সর্বনিম্ন।
যশোরে গত তিনদিনে ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমেছে। মঙ্গলবার এই তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার ছিল সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বৃহস্পতিবার ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জানা যায়, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই জানুয়ারির ৫ তারিখে এবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার ভোরও ছিল কুয়াশা ঘেরা। সকালে কুয়াশা ভেদ করে ওঠে সূর্য। ীণ আলো কুয়াশাকে ভেদ করে মাটি ছুঁয়ে নিলেও গায়ে উষ্ণতা জাগাতে পারেনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা সরে যায়। রোদের দেখা দেয়। কিন্তু তাতে ছিলো না তেজ। ফলে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যহত হয়। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জুবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। রোদ পড়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হয় অসহ্য শীতের কাঁপুনি। রাস্তায় রিকশা, অটোরিকশা কম থাকায় অফিস থেকে ঘরে ফেরা মানুষগুলোর অনেককেই ধীর পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরতে দেখা যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়ে শীতের তীব্রতা।
আবহাওয়া অধিদফতরের মতে, শুক্রবার দেশের আকাশ আংশিক মেঘলা ছিল। এ ছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সূত্র মতে, ‘তাপমাত্রা যদি ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামে তাহলে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। যাকে বলা হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।’ গতকালও এই শৈত্যপ্রবাহ বিস্তার লাভ করে। পাশাপাশি আজ শনিবার পর্যন্ত এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দণি বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। লঘুচাপের প্রভাবে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝরি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের যেসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা আশপাশের এলাকায় বিস্তার লাভ করতে পারে। এদিকে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়, জানুয়ারি মাসে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি বা তীব্র ধরনের শৈত্যপ্রবাহ এবং অন্য এলাকায় ২-৩টি মৃদু বা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

ভাগ