ওহাবি শৃঙ্খল ভাঙতে পারবেন কি বিন সালমান?

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব এক নাটকীয় সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আধুনিকায়ন এবং পুরো বিশ্বের জন্য দেশকে উন্মুক্ত করার এ প্রক্রিয়ায় মূলত অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন উচ্চাভিলাষী ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং দেশ পরিচালনায় আলেমদের ক্ষমতাকে সংকুচিত করার রিয়াদের কৌশলের পেছনে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তাকেই দেখা হচ্ছে। “আমরা সেই জায়গায় ফিরে যাচ্ছি যেখানে পূর্বে ছিলাম- একটি মধ্যপন্থী ইসলামি দেশ, যেটা পুরো বিশ্ব এবং সব ধর্মাবলম্বীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে,” গত অক্টোবরে রিয়াদে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে এসব কথা বলেন বিন সালমান।

সৌদি আরবকে মডারেট ইসলামের দিকে ‘ফিরিয়ে’ নিয়ে যাওয়ার  লক্ষ্যকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিন সালমান দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, “গত ৩০ বছরে যা ঘটেছে সেটা সৌদি আরব ছিল না।”দেশটির অতিরক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকে পড়ার জন্য ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকেই প্রকাশ্যে দায়ী করেন তিনি। তার এই মন্তব্যগুলো দুই কারণে আলোচনার দাবি রাখে: প্রথমত, কারণ তারা স্বীকার করছেন যে ইসলামের ব্যাখ্যায় উদারপন্থার ঘাটতি রয়েছে, যা সৌদি আরব অনুসরণ করে আসছে।

দ্বিতীয়ত, বিরাজমান ধর্মীয় ব্যবস্থার যে ধারণার প্রতিফলন তারা ঘটাচ্ছেন তা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছে এবং তরুণ প্রজন্মের কাছেও অজনপ্রিয়। সৌদি আরবের বিরাজমান পরিস্থিতির জন্য তারা মূলত বাইরের কোন ফ্যাক্টরকেই দায়ী করতে চান- যেমন ‘৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব। সত্যিই কি ইরানী বিপ্লব সৌদি আরবকে অতিরক্ষণশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল?১৯৭৯ সালে সৌদি আরব: ১৯৭৯ সাল ছিল সৌদি আরবের জন্য সব বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। বছরটি সবচেয়ে আলোচিত হয়েছিল মক্কার বড় মসজিদ একটি বিদ্রোহী গ্রুপের দখলে চলে যাওয়ার কারণে। বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য ছিল দূর্নীতিগ্রস্ত ও পাশ্চাত্যের অনুকরণকারী তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করা। এই বছরের ২০ নভেম্বর প্রায় ৫০০ সশস্ত্র বিদ্রোহী জুহায়মান আল ওতায়বি নামক এক বেদুইন ও সাবেক জাতীয় নিরাপতরক্ষী বাহিনীর সদস্যের নেতৃত্বে মক্কার প্রধান মসজিদ দখলে নেয় এবং ওতায়বি প্রচার করে যে, তার ভগ্নীপতি মোহাম্মেদ আল কাহতানি হচ্ছেন ইমাম মাহদি। যিনি মুসলিম বিশ্বকে পাশ্চাত্যের অনাচার থেকে মুক্ত করবেন। দু’ সপ্তাহের দখলদারিত্বের সময় শতাধিক হাজী, বিদ্রোহী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন। একই বছরে ইরানী বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর একটা বড় ধরণের জল্পনাকল্পনা ছড়িয়ে পড়েছিল যে মক্কার বড় মসজিদ দখলে নেওয়ার ঘটনা তেহরান থেকে পরিচালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য এ সন্দেহের অপনোদন ঘটেছিল।

নিজেকে মাহদি দাবি করা মোহাম্মাদ আল কাহতানি এবং মসজিদ দখলের নেতৃত্বদানকারী আল ওতায়বি ইরানের ঘটনায় অনুপ্রাণিত হননি।  কারণ তারা শিয়াদের মনে করত ধর্মোদ্রোহী হিসেবে এবং তাদের ধর্মীয় লক্ষ্য শিয়াদের সাথে প্রাসঙ্গিক ছিল না। গ্রান্ড মসজিদ দখলে যাওয়ার ঘটনার সময় সৌদি সাম্রাজ্যকে মূলত অস্থিতিশীলতা মোকাবেলা করতে হচ্ছিল। কারণ এর মাত্র ৪ বছর আগে বাদশাহ ফয়সাল (রাজত্বকাল ১৯৬৪-১৯৭৫) তার এক ভাতিজার হাতে অতর্কিত হামলায় নিহত হন। বাদশাহ ফয়সাল দেশকে আধুনিকতার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, টেলিভিশন সম্প্রচার চালু করেন, আর্থসামাজিক পুনর্গঠন বাস্তবায়ন করেন এবং মেয়েদের স্কুলসহ শিক্ষাব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটান। কিন্তু অধিকাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এসব আধুনিকায়ন উদ্যোগকে স্বাগত জানায়নি। গ্রান্ড মসজিদ দখল করার ঘটনা পুরো সৌদি রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এবং যখন আয়াতুল্লাহ খোমেনি এ ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেন এবং সমগ্র মুসশলিম বিশ্ব তাকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাতে দেখল- যার কিছুদিন আগেই তাকে দেখা গেল ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক সংবিধান প্রনয়ন করতে, তখন সৌদি আরব আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। কারণ এ ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিল যে মুসলিম জাহানের দু’পবিত্র শহর মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা রক্ষাকারী প্রশাসন নিজেই ভূগছে নিরাপত্তাহীনতায়।

সৌদি প্রশাসন সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বাদশাহ ফয়সালের আধুনিকায়ন প্রচেষ্টার পূর্ববর্তী যুগে ফিরে যাওয়া এবং ধর্মীয় কতৃপক্ষকে শক্তিশালী করাকে উপায় হিসেবে বেছে নিল। সরকার ধর্মীয় বিধিবিধান শক্তভাবে প্রয়োগ করা শুরু করল, পুলিশ ৫ বেলা নামাজের সময় বন্ধ না করায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দিতে থাকল এবং নারীদের আক্ষরিক অর্থেই পাবলিক পরিসর থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। সৌদির নীতি-নৈতিকতা সংরক্ষণ ও অনাচার নিরোধ কমিটি সাধারণত ধর্মীয় পুলিশ হিসেবে পরিচিত। যারা দৃশ্যত সরকারী তহবিল থেকে সুবিধাপ্রাপ্ত এবং তাদের রয়েছে সাধারণ সৌদিয়ানদের জীবনে প্রভাবশালী হস্তক্ষেপ। যদিও ১৯৭০’র ঘটনাসমূহ সৌদিকে প্রভাবিত করেছিল কিন্তু দেশটি তখনই অতিরক্ষণশীল হয়ে যায়নি। এটি ইসলামের কঠোর ব্যাখ্যাসমূহ গ্রহণ করেছিল তারও অনেক পূর্বে- ১৮ শতকে,  যখন সউদ পরিবার একজন কট্টরপন্থী ইসলামী পন্ডিতের সাথে একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছিল।ওহাব-সউদ চুক্তি: সৌদির দাপ্তরিক ধর্মতত্ত্ব হিসেবে দেখা হয় ওহাবি মতবাদকে- যার জন্য দেশটির নেতারা তীব্রভাবে সমালোচিত। এটা মূলত মোহাম্মাদ ইবনে আব্দ আল ওয়াহহাবের (১৭০৩-১৭৯২) ধ্যানধারণার উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে, বিন সালমান এখন যা থেকে সরে আসতে চাইছেন। আবদ আল-ওয়াহহাব ছিলেন আরব উপদ্বীপের নজদ এলাকার একজন ইসলামী পন্ডিত, একজন লক্ষ্যহীন ভ্রমণকারী ও একতা গ্রন্থের প্রণেতা- যা সমসাময়িক অধিকাংশ মক্কা-মদিনাবাসীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

আবদ আল ওয়াহহাব কোরআন-হাদীসের দিকে ফিরে আসার প্রচারণা চালান, ধর্মীয় উদ্ভাবনকে (বিদাত) বাতিল ঘোষণা করেন, পীর-দরবেশে ভক্তি ও সুফি মতবাদের মত বিষয়আশয়- যেগুলো কোরআনে নেই তা দূর করার কথা বলেন। তিনি এমনকি এসব ‘অনৈসলামিক’ মতবাদ ও কার্যক্রমের অনুসারী মুসলিমদের কাফের আখ্যায়িত করেন এবং শরিয়াহ আইন কঠোরভাবে অনুসরণের কথা বলেন। তার শিক্ষায় নতুন কিছুই ছিল না, এটা ছিল মূলত কিছু পুরণো ধ্যান-ধারণা এবং হাম্বলি (ইমাম হাম্বলের) মতবাদের অতিরক্ষণশীল পুনর্জীবন। এটা ছিল তার প্রবল ধর্মীয় ভাবাবেগ যা যেভাবেই হোক তাকে সউদ পরিবারের  ঘনিষ্ঠজনে পরিণত করে। মোহাম্মাদ ইবনে সউদ যখন আল-দিরিয়া এলাকা শাসন করতেন যা আজকের রাজধানী রিয়াদের আশেপাশের এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ছিল একই সময়ে আবদ আল-ওয়াহহাব মক্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জায়গায় নিজের মতবাদ প্রচার করে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ১৭৭৪ সালে আবদ আল-ওয়াহহাব মদীনা থেকে পালিয়ে আল দিরিয়ায় পৌছান এবং ইবনে সউদের কাছে নিরাপত্তা কামনা করেন।  ইবনে সউদ সামরিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করবেন আর আবদ আল-ওয়াহহাব ধর্মীয় বিষয়াদি দেখবেন- এমন সমঝোতায় দু’জনে ক্ষমতা ও দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাধ্যমে মৈত্রী গড়ে তোলেন।

ধর্মীয় বৈধতাকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্রের উপর ভর করে ইবনে সউদ তার শাসন আল-দিরিয়ার বাইরেও বিস্তৃত করেন। এভাবে আরব উপদ্বীপে প্রথমবারের মত গড়ে তোলেন সৌদি রাষ্ট্র। আবদ আল-ওয়াহহাবের মৃত্যুর পরও ক্ষমতা ভাগাভাগি প্রক্রিয়ায় কোন প্রভাব পড়েনি। কারণ তার বংশধররাই  (শেখ পরিবার) পরবর্তীতে রাষ্ট্রক্ষমতার অধীনে ধর্মীয় বিষয়াদি দেখার দায়িত্বে থেকে যান। তারা বাদশাহ’র সিদ্ধান্ত ও উত্তরাধিকার নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানানোর মাধ্যমে সউদ প্রাসাদের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে বৈধতাদান করেন। বিনিময়ে শেখ পরিবার রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় একটি সুবিধাজনক অবস্থান উপভোগ করেন এবং নীতিনৈতিকতা সংরক্ষণ ও অনাচার নিরোধ কমিটি, শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অত্যন্ত গুরুত্ববহ ভূমিকা পালন করেন।

একটি ‘মধ্যপন্থী’ সৌদি আরব সম্ভব? আরব উপদ্বীপে সৌদির ক্ষমতাকে ধর্মীয় বৈধতা দানের মাধ্যমে  ওয়াহহাব-সউদ মৈত্রী টিকে আছে ২৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এখনই কি এর সীমা টানার সময় হয়ে গেছে? এটা কি তার ভূমিকা যথাযথ পালন করছে না, নাকি সউদ প্রাসাদের কাছে এর প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে? গত কয়েক বছর ধরে সৌদি কতৃপক্ষ সচেতনভাবে শেখ পরিবারের ক্ষমতা ক্রমাগত কমিয়ে আনছে।উদাহরণস্বরুপ ২০১০ সালে প্রয়াত বাদশাহ আব্দুল্লাহ একটি একটি ফরমান জারি করেন যে, কেবলমাত্র রাষ্ট্রস্বীকৃত পন্ডিতরাই ফতওয়া দিতে পারবেন। বর্তমান বাদশাহ সালমান এবং তার ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানের সময়ে আরও বেশি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে গ্রেফতার করার ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নীতি-নৈতিকতা সংরক্ষণ ও অনাচার নিরোধ কমিটির পুলিশী কার্যক্রমকে সংকুচিত করে ফেলা হয়। ২০১৬’র ডিসেম্বরে বাদশাহ জ্যেষ্ঠ স্কলারদের সমন্বয়ে গঠিত সর্বোচ্চ ধর্মীয় পরিষদে তুলনামূলক উদারপন্থী আলেমদের নিয়োগ দেন। ২০১৭ সালে গানের কনসার্ট করার অনুমতি দেওয়া হয়, নারী-পুরুষের উপস্থিতিসহ পাবলিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩৫ বছর পর পুনরায় সিনেমা হল খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। যাইহোক, সৌদির ক্ষমতা কাঠামোতে আরও বড় ধরণের পরিবর্তন আসার সুযোগ রয়েছে।

দেশটির আইন ব্যবস্থা ইসলামী আইন অনুসারে পরিচালিত হয়। এটিই আইনের চূড়ান্ত উৎস। ইসলামী আইনের ঐতিহ্যবাহী ব্যাখ্যাসমূহ কঠোরভাবে মেনে চলাই ছিল আবদ আল-ওয়াহহাব প্রদানকৃত দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে সহজ কথায় সৌদি-ওয়াহাবী বন্ধন ভাঙার অর্থ দাঁড়াবে আইনের ব্যাখ্যার জন্য বিচারকদের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে এসব ঐতিহ্যবাহী ব্যাখ্যার সাথে সম্পর্কই ছিন্ন করা এবং আইনের সম্ভাব্য সার সংগ্রহ করা। এই মুহুর্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং বিদেশীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে দেশকে তার ওয়াহাবী শিকড়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার  প্রয়োজন পড়বে কিনা। ধর্মীয় কতৃপক্ষের গুরুত্ব কমিয়ে ফেলা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন মনে হচ্ছে সৌদি আরবও ধীরে ধীরে একই মডেল অনুসরণের দিকে এগুচ্ছে। এসব পরিবর্তনের ফলে সুবিধাবঞ্চিত হওয়ার পরও সৌদির ধর্মীয় বলয় প্রকাশ্যে ক্রাউন প্রিন্সের দূর্নীতি বিরোধী যুদ্ধ এবং নীতিনৈতিকতা সংরক্ষণ ও অনাচার নিরোধ কমিটির ক্ষমতা কমিয়ে আনার নীতির প্রতি সমর্থন দিচ্ছে । ফলে শতবর্ষের পুরণো বাঁধা-ধরা ধর্মীয় কাঠামো কাগুজে বাঘে পরিণত হতে পারে যার ভাগ্য শাসকের হাতে ন্যস্ত। কিন্তু আধুনিকায়নের স্বার্থে ধর্মীয় অভিজাতগোষ্ঠীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার কয়েক দশকের রাষ্ট্রীয় নীতি থেকে সরে আসায় একে দূর্নীতি এবং পাশ্চাত্যের অনুসরণ হিসেবে আখ্যা দিতে ফের যে কাউকে উত্তেজিত করে দিতে পারে। এমনকি বিন সালমানের নীতি বহুসংখ্যক ভিন্নমতাবলম্বী আলেমকে গোপনে জোটবদ্ধ করে দিতে পারে। প্রকাশ্যে আসার আগে কয়েকবছর ধরে গোপনে অসন্তোষ দানা বাঁধার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তার নীতি সৌদি তরুণদের আশাবাদী করে তুলছে, কিন্তু সমস্যার বিষয় হল ক্ষমতার চাবিকাঠি তাদের হাতে নেই। কিন্তু একইসাথে কয়েক দশক ধরে রক্ষণশীল শাসনে বসবাস করা  বয়োজ্যেষ্ঠ প্রজন্ম, ক্ষমতা হারানো রাজপুত্ররা এবং অবস্থান নড়বড়ে হওয়া যাওয়া বিরাট  সংখ্যক ধর্মীয় অভিজাতদের অনেকেই নিজেদের বঞ্চিত মনে করতে পারেন। যেটা হয়ত তাদেরকে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিবে এবং ফের ১৯৭৯’র পুনরাবৃত্তি ঘটাবে।

##মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা হতে অনুবাদকৃত। লেখক: ইউরি বার্মিন। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিষদের একজন বিশেষজ্ঞ।  মূল লেখা: https://www.aljazeera.com/indepth/opinion/mohammed-bin-salman-break-saudi-wahhabi-pact-180107091158729.html

ভাগ