আদালতে যে কথা শুনে হাসলেন খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আজকের মতো শেষ হয়েছে। কিন্তু তার আগে যুক্তি উপস্থাপনে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালামকে এ পি জি মোহাম্মদ আলী বলায় আদালতে মুচকি হাসলেন বেগম জিয়া। বুধবার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।
যুক্তি উপস্থাপনের এক পর্যায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি এ পি জে আব্দুল কালামের কথা তুলে ধরেন। তিনি যুক্তিতে এ পি জে আব্দুল কালাম না বলে এ পি জে মোহাম্মদ আলী বলেন। এটা শুনে খালেদা জিয়া মুচকি হাসতে খাকেন। ওই সময় এজলাসে থাকা আইনজীবীরাও হাসতে থাকেন। এদিকে আজ বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে খালেদা জিয়া রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে পৌঁছান। এর পরই বিচারক বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান মামলার কার্যক্রম শুরু করেন।
শুরুতেই আদালত বলেন, আদালত বসার সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট। কিন্তু আপনারা ১২টায় এলেন, এভাবে চলতে পারে না। আগামীকাল থেকে ১০টায় হাজির হবেন। আপনারা আগে সাড়ে ১০টায় আসতেন, ১১টায় আসতেন, মেনে নিয়ে বসতাম। কিন্তু ১২টায় আদালতে এলেন, এটা হতে পারে না। এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আমাদের মামলায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এ জন্য আমরা দেরি করে এলাম। জবাবে আদালত বলেন, আপনারা আইনজীবীরা তো ১০টায় এলেন, আমিও এলাম। কিন্তু ১২টায় শুনানি করতে হলো। এভাবে চলতে পারে না। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীকে উদ্দেশ করে বিচারক বলেন, আপনি বিরতির আগে আপনার যুক্তিতর্ক শেষ করবেন। আজ নবম দিনের যুক্তিতর্কের মধ্যে আপনিই পাঁচ দিন চালাচ্ছেন। খন্দকার মাহবুব একদিন, আবদুর রেজাক খান দুদিন বললেন। আর কত দিন বলবেন? প্রসিকিউশন তো মাত্র একদিন বলল।
এ কথা শুনে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে হৈচৈ শুরু করেন। এ সময় খালেদা জিয়া আদালতের সামনে একটা চেয়ারে বসেছিলেন। আইনজীবীরা হৈচৈ শুরু করলে তিনি আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এ সময় ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, এটা তো মার্শাল কোর্টের চেয়েও খারাপ নজির। ওয়ান-ইলেভেন ক্যাঙ্গারু কোর্টে এমনভাবে সময় বেঁধে দেয়নি। এ সময় জুনিয়র আইনজীবীরা হৈচৈ শুরু করে আদালতের উদ্দেশে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে থাকেন। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, বিজ্ঞ আদালত, আপনি আমাকে শুনানি করার জন্য আটকিয়ে দিতে পারেন না, সময় বেঁধে দিতে পারেন না। আসামিকে বলার সুযোগ করে দিতে হবে। এরপর আদালতে আইনজীবীরা আবারও হৈচৈ শুরু হলে আদালত বলেন, আমি এখন মুলতবি করে দেবো। জবাবে খালদা জিয়ার প্রধান আইনজীবী আবদুর রেজাক খান আদালতকে বলেন, বিজ্ঞ আদালত আমাকে এক মিনিট বলার সুযোগ দেন। বিচারক বলেন, ‘সিনিয়র, আপনি বলেন।’
পরে আবদুর রেজাক খান বলেন, এ মামলায় মূল কথা তিনটি। খালেদা জিয়া আ্যকাউন্ট খুলেছেন কি না? টাকা উত্তোলন করেছেন কি না? ব্যয় করেছেন কি না? তাহলে প্রসিকিউটর কি এসব প্রমাণ করতে পেরেছেন? আমি মনে করি, পারেননি। ‘যে কারণে আমাদের এতসব যুক্তিতর্কের সময় নিতে হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যারও বিচার এত বছর পর নিষ্পত্তি হয়নি, রাজীব গান্ধী হত্যা চোখের সামনে হয়েছে। এরপরও এত বছরে তা নিষ্পত্তি হয়নি। তাহলে এখানে আসামিকে শুনতে দিচ্ছেন না কেন? আসামিকে শোনার সুযোগ দিতে হবে। এই পর্যায়ে আদালত আবার বলার সুযোগ দেন। এরপর এ জে মোহাম্মদ আলী আবার যুক্তিতর্ক শুরু করেন।

ভাগ